কিছুদিন আগে একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ফ্রিল্যান্সিং বলতে সে কি বোঝে, উত্তর কিছুটা এমন ছিল যে, ‘ঐ যে লোকজন পিসি তে বসে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে কি কি জানি করে ঐ টা’।…

শেয়ার করুন!
ফ্রিল্যান্সিং ও ফ্রিল্যান্সার

ফ্রিল্যান্সিং ও ফ্রিল্যান্সার

কিছুদিন আগে একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ফ্রিল্যান্সিং বলতে সে কি বোঝে, উত্তর কিছুটা এমন ছিল যে, ‘ঐ যে লোকজন পিসি তে বসে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে কি কি জানি করে ঐ টা’।  এই উত্তর থেকেই বুঝে নিয়েছি তার ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কোনই ধারনা নেই। বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনের পরেও এখনো বেশিরভাগ মানুষের কোন ধারনা নেই এই  বিষয় সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে কোন এমপ্লয়্যারের দেয়া স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে কোন কাজ।

যারা ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে থাকে, তাদের ফ্রিল্যান্সার বা সেল্ফ এমপ্লয়েড বলা হয়ে থাকে। বাংলায় যাকে বলে স্বনিযুক্ত অর্থাৎ এমন একজন ব্যাক্তি যে স্বল্প মেয়াদী চুক্তিতে স্বাধীনভাবে কোন এমপ্লয়্যার অথবা ক্লায়েন্টের দেয়া কাজ করে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং বলতে সাধারণ মানুষ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বেজড কোন কাজ ভেবে থাকে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং আরো অনেক কাজ অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কপিরাইটিং, পাব্লিসিটি, রাইটিং যেমন ব্লগপোস্ট রাইটিং অথবা আর্টিকেল রাইটিং, ট্রান্সলেটিং, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্কিটেকচারাল ডিজাইনিং, বুককিপিং ইত্যাদি ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত।

পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে বেশিরভাগ ই লেখনির কাজ অথবা অনুবাদের কাজ করে থাকে। তারপরের সংখ্যাটা যায় ওয়েব ডিজাইনার আর গ্রাফিক্স ডিজাইনার ক্যাটাগরির কাজ যারা করেন তাদের ক্ষেত্রে। ওয়েব ডেভেলপারদের সংখ্যাটা খুব বেশি নয়।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং খুব বেশি পুরাতন নয়। গত চার- পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয়তা পেয়েছে যা আগে কখনো পায়নি। বাংলাদেশ প্রথম ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে পরিচিত হয় ১৯৯৮ সালে। ‘GURU’ ছিল বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং এর মার্কেটপ্লেস। এখনকার ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোর কিছু হচ্ছে Freelancer.com , Upwork.com , Fiverr.com ইত্যাদি। এসব ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্টরা প্রোজেক্ট দিয়ে থাকে, আর এসব প্রোজেক্টের পেমেন্টের  উপর বিড হয়। এসব প্রোজেক্টের জন্য ক্লায়েন্টরা ঘন্টাভিত্তিক অথবা দিনভিত্তিক কিংবা কি ধরণের প্রোজেক্ট তার উপর ভিত্তি করে কাজশেষে পেমেন্ট করে থাকে।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের কোন প্রোজেক্টের জন্য ঘন্টাপ্রতি বা প্রোজেক্ট ভিত্তিতে পেমেন্ট দেওয়া হয়ে থাকে। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ সাধারণত শুরু করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কারো সুপারিশে, কিন্তু কারো যদি সুপারিশ করার মত কেউ না থাকে তাহলে সে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিজের কাজের নমুনা উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রোজেক্ট পেতে পারে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্র কাজ শুরুর সময় সেভাবে সাড়া নাও পেতে পারে কিংবা খুব কম মূল্যে কাজ করতে হতে পারে, কারণ ক্লায়েন্টরা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফ্রিল্যান্সার চান প্রোজেক্টের গুনগতমান রক্ষার্থে। কিছুদিন কিছু প্রোজেক্টে কাজ করার পর অভিজ্ঞতা বাড়লে তখন আর কম মূল্যে কাজ করার প্রয়োজন পরেনা।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশাগত ভাবে খুব কম মানুষ নিয়ে থাকে। সাধারণত আইটি স্টুডেন্টরা পার্ট টাইম জব হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে। অবশ্য এখন অনেক ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টার গড়ে উঠছে যেখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরি হচ্ছে।

যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যাচ্ছে তাদের অবশ্যই যেকোন বিষয়ে কিছু বিষেশ দক্ষতা থাকতে হবে এবং যে বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে যাচ্ছে সেসব বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং যন্ত্র থাকতে হবে। বেশিরভাগ এমপ্লয়্যারই দেশি হবেনা তাই যোগাযোগ হবে স্কাইপ অথবা ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে। আর এর জন্য প্রয়োজন ইংরেজিতে যথেষ্ট পারোদর্শিতা।

ফ্রিল্যান্সিং মানেই নিজের ঠিক করা সময়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করা। ক্লায়েন্টরা সাধারণত তাদের সময় স্বল্পতার জন্য কিংবা ওয়ার্কলোড কমানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তা নিয়ে থাকে। কোন প্রোজেক্ট অথবা প্রোজেক্টের কোন অংশের উপর বিড হয়। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফ্রিল্যান্সাররা নিজেদের পছন্দমত কাজ বেছে নেয় কোন অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে।

বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষদের যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০%।  এই যুবসমাজকে প্রযুক্তির আওতায় আনলে তারা অনেকেই নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই করে নিতে পারবে।ডিজিটালাইজেশনের ফলে ইদানীংকালে প্রযুক্তির ব্যাবহার বেড়ে যাওয়ায় এই যুবসমাজের কাছে ফ্রিল্যান্সিং খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকেই গদবাধা নিয়মের চাকরি পরিত্যাগ করে নিজেরাই নিজেদের বস হতে চাচ্ছে, আর এর জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর বিকল্প নেই।

 

লিখেছেনঃ
সুমাইয়া সামাদ স্নিগ্ধা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন!

  • Social Links:

Leave a Reply